উড়োজাহাজ ভ্রমণে ফোন এয়ারপ্লেন মোডে কেন রাখতে হয়


আচ্ছালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শক - দৈনিক শিক্ষা ব্লগর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে উড়োজাহাজ ভ্রমণে ফোন এয়ারপ্লেন মোডে কেন রাখতে হয় নিয়ে আলোচনা করব।

 

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করা সব স্মার্টফোনগুলোতেই এয়ারপ্লেন মোড আছে। তবে, প্রশ্ন হচ্ছে, উড়োজাহাজে ভ্রমণ করার সময় আমরা স্মার্টফোনটি এয়ারপ্লেন মোডে রাখি কি?
সাধারণত এয়ারপ্লেন মোডে স্মার্টফোন সমস্ত নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। উড়োজাহাজে যেহেতু এমনিতেই ফোনে নেটওয়ার্ক থাকে না। তাই অনেকেই আলাদা করে নিজের ফোন এয়ারপ্লেন মোডে রাখেন না বা রাখার প্রয়োজন মনে করেন না।
কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলেন, উড়োজাহাজে ফোন এয়ারপ্লেন মোডে রাখাটা খুবই জরুরি। কারণ, তা না হলে আকাশে ওড়াকালীন ফোনের ইলকট্রোম্যাগনেটিক সিগন্যাল ক্রমাগত নেটওয়ার্কের খোঁজ করবে এবং উড়োজাহাজের নিজস্ব ইলকট্রোম্যাগনেটিক প্রযুক্তির কাজে বাধা সৃষ্টি করবে।
আপনার মনে হতেই পারে, একটি ফোনের সিগন্যাল কী এমন ক্ষতি করতে পারে! একটি ফোনের সিগন্যাল বিশেষ কোনো সমস্যা তৈরি না করলেও অধিকাংশ যাত্রীর ফোনের ইলকট্রোম্যাগনেটিক সিগন্যাল যদি একসঙ্গে নেটওয়ার্কের খোঁজ করতে থাকে তবে তা উড়োজাহাজের যোগাযোগ এবং দিকনির্ণয় করা প্রযুক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে বলে জানাচ্ছেন অ্যাভিয়েশন ট্রেনিং ইন্ডিয়ার প্রশিক্ষক রাজা গোপাল।
প্রশিক্ষক রাজা গোপাল বলছেন, “আধুনিক উড়োজাহাজ ওই ধরনের ঝুঁকি কমাতে পারে ঠিকই। তবে তারও একটা সীমা আছে। একটা প্রমাণ সাইজের উড়োজাহাজে কমপক্ষে দেড়শো যাত্রী থাকেন। সকলেই যদি ভাবেন, একা আমার ফোন আর কী ক্ষতি করবে, তা হলে বিষয়টা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। তখন সঙ্কটজনক পরিস্থিতি তৈরি হবে।”
প্রশিক্ষক রাজা গোপাল জানাচ্ছেন, বড় সঙ্কটের ঝুঁকি খুবই কম। তবে তা উড়োজাহাজের স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশের ক্ষতি করতে পারে। ককপিটের সঙ্গে গ্রাউন্ড কন্ট্রোলের যোগাযোগ প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।
রাজা গোপাল বলছেন, “বিশেষ করে উড়োজাহাজ ওঠা-নামার সময়ে ফোন এয়ারপ্লেন মোডে রাখা জরুরি। প্লেনের গতি এবং ক্রমাগত বাড়তে থাকা উচ্চতার জন্য ওই সময়ে ফোন বিভিন্ন টাওয়ার থেকে সিগন্যাল নিতে থাকে। প্রতি মুহূর্তে বদলাতে থাকে টাওয়ার। অন্যদিকে, উড়োজাহাজও সেই সময়ে গ্রাউন্ড কন্ট্রোলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতে থাকে। রেডিও অল্টিমিটারের মাধ্যমে ৪ গিগা হার্টজ রেঞ্জে চলে ওই যোগাযোগ প্রক্রিয়া। যা প্রায় মোবাইলের ফাইভ জি সিগন্যালের সমান। মোবাইলের সিগন্যাল সেই যোগাযোগকে ব্যাহত করতে পারে।”
প্রশিক্ষক রাজা গোপাল মতে, “উড়োজাহাজে ফোন এয়ারপ্লেন মোডে রাখাটা আদতে খুব ছোট্ট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কাজ। যারা ভ্রমণ করছেন, তাদের প্রত্যেকের এবং নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবেও এটি করা জরুরি।”
তবে এ ছাড়াও উড়োজাহাজ ভ্রমণে ফোন এয়ারপ্লেন মোডে না রাখলে আরও সমস্যা হতে পারে। হায়দরাবাদের গ্লেনিগলস হাসপাতালের ক্রিটিকাল কেয়ার বিভাগের প্রধান চিকিৎসক মনীন্দ্র বলেন, “যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি ছাড়াও ফোন এয়ারপ্লেন মোডে না রাখলে শারীরিক সমস্যাও হতে পারে। উড়োজাহাজে অনেক যাত্রীই কিছুটা উদ্বেগে থাকেন। ফোন থেকে নির্গত ইলকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন মানসিক চাপের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। যা যাত্রীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।”
চিকিৎসকেরাও বলছেন, উড়োজাহাজে ভ্রমণের সময় বরং ফোন ব্যবহার না করে বিশ্রাম নিন। হালকা মেজাজের বই পড়তে পারেন। ঘুমাতে পারেন। এমনকি, মেডিটেশনও করার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

আপনার আসলেই দৈনিক শিক্ষা ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। উড়োজাহাজ ভ্রমণে ফোন এয়ারপ্লেন মোডে কেন রাখতে হয় এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

পরবর্তী পোস্ট পূর্ববর্তী পোস্ট
🟢 কোন মন্তব্য নেই
এই পোস্ট সম্পর্কে আপনার মন্তব্য জানান

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন - অন্যথায় আপনার মন্তব্য গ্রহণ করা হবে না।

comment url