বাঙালির নৃতাত্ত্বিক পরিচয় দাও।


আচ্ছালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শক - দৈনিক শিক্ষা ব্লগর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে বাঙালির নৃতাত্ত্বিক পরিচয় দাও। নিয়ে আলোচনা করব।

উত্তর: বাঙালির নৃতাত্ত্বিক পরিচয় অতি জটিল। তবে বলা চলে এদেশে রক্ত সংসর্গ একটু বেশি পরিমাণেই হয়েছে। আধুনিক কালে রিজলে, রমাপ্রসাদ চন্দ্র, বিরজাশঙ্কর গুহ প্রমুখ অনেকেই বাঙালির আঙ্গিক বিচার করেছেন। তারা মাথা, কপাল, নাক, ঠোঁট কিংবা চোখ, চুল, চামড়া নিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, বাঙালি নরগোষ্ঠীর সাথে নেগ্রিটো আদি অস্ট্রেলীয় (ভেজ্জিড) ও মঙ্গোলীয় নরগোষ্ঠীরই মিশ্রণ ঘটেছে বেশি। তাই শতকরা ষাট ভাগ অস্ট্রেলীয়, বিশ ভাগ মঙ্গোলীয়, পনেরো ভাগ নেগ্রিটো এবং পাঁচ ভাগ অন্য নরগোষ্ঠীর রক্ত মিশেছে বলে অনুমান করা হয়। নিষাদ, কোল, ভীল, মুণ্ডু, সাঁওতাল, শবর, পুলিন্দ, মালপাহাড়ি প্রভৃতি হচ্ছে অপেক্ষাকৃত স্বল্প সংকর আদি অস্ট্রেলীয় বা ভেড্ডিড। আর কিরাত রাজবংশী, নাগা, কোচ, মেচ, নিজো, কুকী, চাকমা, আরাকানী প্রভৃতি হচ্ছে স্বল্প সংকর মঙ্গোলীয়। তাছাড়া কালপ্রবাহে কত গৌড়, মালব, খশ, চৌড়, হুন, কর্ণাট, কুলিক, লাট, দ্রাবিড়, শক, মুরজ্ঞা, কুশান, ইউচি, ইরানি, হাবসি, আরব, তুর্কি, আফগানি, পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, ফরাসি ও ইংরেজ রক্ত মিশ্রিত তো হয়েছে। তবে তা পরিমাণে বেশি নয়। পুঞ্জ, রাঢ়, বঙ্গ, সুক্ষ নামের অস্ট্রিক গোত্রগুলোই ছিল ভৌগোলিক বাংলাদেশে প্রধান। অপ্রধানের মধ্যে কোল, শবর, পুলিন্দ, হাড়ি, ডোম, চণ্ডালেরা ছিল নির্জিত।

মহাভারতোক্ত অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, সুক্ষ ও পুঞ্জ রাজারা ছিলেন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে কুরুপক্ষের। কালিদাসের রঘুবংশে নৌযুদ্ধে নিপুণ ও সাহসী বাঙালিদের রঘু পরাস্থ করেছিল বলে বর্ণিত হয়েছে। এতে মনে হয় বাঙালিদের গোত্র রক্ত পরিচয় যাই হোক, রাজনীতিতে তারা পিছিয়ে ছিল না। এ রক্ত সংসর্গ বাঙালির স্বভাব চরিত্রে যেমন অনন্য, তাদের কৃতি কীর্তিও বিচিত্র। ড. নীহাররঞ্জন রায়ের ধারণায় প্রাচীন বাঙালির চরিত্র এরূপ:

     শাস্ত্রচর্চা ও জ্ঞানচর্চায় বুদ্ধি ও যুক্তি অপেক্ষা প্রাণধর্ম ও হৃদয়াবেগের প্রাধান্য আবর্তন ও বিপ্লব, দুঃসাহসী সমন্বয়, সঙ্গীকরণ ও সমীকরণ যেন বাঙালির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সনাতনত্বের প্রতি একটা বিরাগ, বাংলার ঐতিহ্যধারায়, বাঙালির বৃত্তি যথার্থতা বৈতসী। যে আদর্শ, যে ভাব স্রোতের আলোড়ন, ঘটনার যে তরঙ্গ যখন এসে লেগেছে, বাংলাদেশ তখন বেতস লতার মতো নুইয়ে পড়ে অনিবার্য বোধে তাকে মেনে নিয়েছে। এবং ক্রমে নিজের মতো করে তাকে গড়ে নিয়ে নিজের ভাব ও রূপদেহের মধ্যে তাকে সমন্বিত ও সমীকরণ করে আবার বেতস লতার মতো সোজা হয়ে স্বরূপে দাঁড়িয়েছে। যে দুর্মর অন্তর্নিহিত প্রাণশক্তি বেতস গাছের, সেই দুর্মর প্রাণশক্তিই বাঙালিকে বার বার বাঁচিয়েছে।

আপনার আসলেই দৈনিক শিক্ষা ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। বাঙালির নৃতাত্ত্বিক পরিচয় দাও। এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

পরবর্তী পোস্ট পূর্ববর্তী পোস্ট
🟢 কোন মন্তব্য নেই
এই পোস্ট সম্পর্কে আপনার মন্তব্য জানান

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন - অন্যথায় আপনার মন্তব্য গ্রহণ করা হবে না।

comment url